Home | স্বাস্থ্য | থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে কী হয়

থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি হলে কী হয়

থাইরয়েড দেহের একটি গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থি। থাইরয়েড হরমোন ভারসাম্যহীন হলে বিভিন্ন ধরনের শারীরিক সমস্যা হয়। আজ ৩১ জানুয়ারি এনটিভির স্বাস্থ্য প্রতিদিন অনুষ্ঠানের ২২৮৩তম পর্বে এ বিষয়ে কথা বলেছেন ডা. এ কে এম শফিকুল ইসলাম। বর্তমানে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজের হেমাটোলজি বিভাগে কর্মরত আছেন।
প্রশ্ন : থাইরয়েড মানে কী? এর অবস্থার কোথায় এবং এর কাজ কী?  
উত্তর : থাইরয়েড গ্ল্যান্ডকে আমরা বাংলায় অন্তক্ষরা গ্রন্থি বলি। এর থেকে হরমোন নিঃসৃত হয়। এর অবস্থান হচ্ছে কলার বোনের ওপর এবং গলার মধ্যে যে প্রমিনেন্ট (প্রধান) অংশটুকু রয়েছে এডামস অ্যাপেল, তার ঠিক নিচে। এটি প্রজাপতির মতো বিন্যস্ত থাকে। 
স্বাভাবিক অবস্থায় এই থাইরয়েড গ্রন্থিকে সাধারণত দেখা যায় না। কোনো রোগের কারণে বড় হলে এটি দেখা যায়। 

প্রশ্ন : এটি থেকে সাধারণত কী কী সমস্যা হয়?
উত্তর : থাইরয়েড গ্রন্থির কাজে কিছুটা অসুবিধা হয়ে থাকে। আবার তার গঠনগত দিক থেকে কিছু অসুবিধা হতে পারে। বড় হয়ে যেতে পারে। নডিওলের মতো হতে পারে। আবার ওখানে ক্যানসারও হতে পারে, একদম চরম পর্যায়ে গেলে। 
প্রশ্ন : হাইপার থাইরয়েডিজম এবং হাইপো থাইরয়েডিজম কী?
 

উত্তর : থাইরয়েড গ্রন্থির প্রধান কাজই হলো থাইরয়েড হরমোন তৈরি করা। হাইপার শব্দটি তার অতিরিক্ত কার্যকারিতার সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত। অর্থাৎ ওই গ্রন্থি যখন অতিরিক্ত হরমোন তৈরি করে, তখন সেটিকে আমরা হাইপার থাইরয়েডিজম বলে থাকি। আবার যখন প্রয়োজনের তুলনায় কম হরমোন তৈরি করে, তখন সেটিকে হাইপোথাইরয়েডিজম বলে থাকি। 
থাইরয়েড হরমোন আমাদের শরীরের এত গুরুত্বপূর্ণ হরমোন যে শরীরিক বিপাকীয় প্রক্রিয়ার ওপর সব জায়গায় এর প্রভাব রয়েছে। পাশাপাশি হৃৎপিণ্ডের গতি নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তের চাপ নিয়ন্ত্রণে এর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যেই কারণে হাইপার থাইরয়েডিজম এবং হাইপোথাইরয়েডিজম নিয়ে আমরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা অনেক বেশি চিন্তিত থাকি। দুটোর দুই রকম ক্ষতিকর প্রভাব রয়েছে।  
প্রশ্ন : হাইপার বা হাইপো যাই হোক- এর মূল কারণগুলো কী?
উত্তর : আমাদের প্রতিটি অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন মস্তিষ্ক থেকে সিগনালিংয়ের (সংকেত) মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়, এই থাইরয়েড অন্তক্ষরা গ্রন্থিটিও তাই। আমাদের মস্তিষ্কে হাইপোথেলামাস নামক একটি অঙ্গ রয়েছে, সেখান থেকে একটি নির্দিষ্ট হরমোন তৈরি হয়ে আসে; যেটি থাইরয়েড গ্রন্থিটির কার্যক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করে। যদি সেখানের কোনো হরমোন থাইরয়েড গ্রন্থিকে নিয়ন্ত্রণ করে, সেই হরমোন বেশি তৈরি হলে যেমন হাইপার থাইরয়েডিজম হতে পারে। আবার কম তৈরি হলে সেখানে রোগীর হাইপোথাইরয়েডিজম হতে পারে। 
পাশাপাশি এই গ্রন্থির নিজস্ব কিছু রোগের কারণেও হাইপার থাইরয়েডিজম পর্যায়ে চলে যেতে পারে। আবার হাইপোথাইরয়েডিজম অবস্থায় চলে যেতে পারে। থাইরয়েড হরমোন তৈরি করার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হলো আয়োডিন। থাইরয়েড হরমোন তৈরি করার জন্য আয়োডিন অত্যন্ত জরুরি। 
উত্তরাঞ্চলের মানুষদের অত্যন্ত প্রচলিত একটি সমস্যা হলো হাইপোথাইরয়েডিজম। কারণ এটি সমুদ্রের অঞ্চলের থেকে অনেক দূরে। যে কারণে তাদের শরীরে যথেষ্ট পরিমাণে আয়োডিনের অভাব রয়েছে। তাই হাইপোথাইরয়েডিজমের রোগীরা ওই অঞ্চলের বেশি হয়ে থাকে। 
প্রশ্ন : একজন মানুষের হাইপার থাইরয়েডিজম বা হাইপোথাইরয়েডিজম হলে কী কী সমস্যা হতে পারে?
উত্তর : একজন রোগীর ভিজিবাল গ্রোথ (দৃশ্যত বৃদ্ধি) থেকে সব সময় যে হাইপোথাইরয়েডিজম হবে বা হাইপার থাইরয়েডিজম হবে তার কোনো প্রয়োজন নেই। এটি আমাদের শারীরবৃত্তীয় বিপাকীয় প্রক্রিয়ায় অনেক ধরনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যখন বেশি হবে, তখন আমরা রোগীদের মধ্যে দেখব। আবার যখন হরমোন কম হবে, তখন কিছু সমস্যা রোগীদের মধ্যে লক্ষ করব। 
আমরা তাদের মধ্যে অস্থিরতা খেয়াল করি। রোগীরা অনেক অস্থির থাকে, কোনো কাজে স্থিরধীর হতে পারে না। সে কোনো কাজে মনোযোগ দিতে পারে না। তার চোখটি বের হয়ে আসে। শরীরে অতিরিক্ত ঘাম হয়। কোনো কাজ করতে গেলে হাতে সূক্ষ্ম কাঁপুনি দেয়। পাতলা পায়খানা হয়, ওজন কমে যায়। খাওয়ার রুচি থাকা সত্ত্বেও তার ওজন কমে যায়। 
আর যদি এই হরমোন কম পরিমাণে চলে আসে, তাহলে হাইপার থাইরয়েডিজমের বিপরীত বিষয়গুলো হয়। যেমন : তার সব কাজকর্মে ধীরগতি চলে আসবে। আগের তুলনায় সে সব কাজে ধীরস্থির হয়ে যাবে। তার মুখ ফুলে যাবে, পা ফুলে যাবে। চামড়া খসখসে হয়ে যাবে। পায়খানা শক্ত হবে। অতিরিক্ত ঠান্ডা সে সহ্য করতে পারবে না। তার কানে শুনতে অসুবিধা হতে পারে। তার হঠাৎ করে ওজন বেড়ে যেতে পারে। এগুলো দেখলে আমরা রক্তের কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা দিয়ে থাকি।
প্রশ্ন : এই সমস্যা থেকে উত্তরণের পথ কী?
উত্তর : যদি কোনো রোগীর সমস্যা থাকে, যদি হাইপার ফাংশনাল অবস্থায় থাকে, আমাদের কাছে কিছু ওষুধ রয়েছে। সেগুলো দিই। কিছু অস্ত্রোপচারের বিষয় থাকে। রেডিওঅ্যাকটিভ আয়োডিন দিয়ে চিকিৎসা করে থাকি। রোগের ধরন ভেদে এটি ভিন্ন রকম হয়ে থাকে। 
তেমনিভাবে যদি কোনো রোগী হাইপোথাইরয়েডিজম অবস্থায় থাকে, তখন থাইরক্সিন হরমোনের রিপ্লেসমেন্ট দিয়ে থাকি। থাইরক্সিন হরমোন আমরা রোগীকে রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে দিই, যদি রোগীর থাইরয়েড হরমোন কম থাকে। 
আর যদি একজন রোগীর থাইরয়েড হরমোন বেশি থাকে, তাহলে ১৮ থেকে ২৪ মাস চিকিৎসা করে বন্ধ করে দিতে পারি। অথবা আমরা অস্ত্রোপচার করে, একটি সুনির্দিষ্ট ওষুধ দিয়ে চিকিৎসা করি। 

 

About abdullah ashik

Check Also

হার্ট অ্যাটাক হয় যেসব কারণে

হার্ট অ্যাটাক একটি জটিল অবস্থা। হার্ট অ্যাটাক হওয়ার বিভিন্ন কারণ রয়েছে। হার্ট অ্যাটাকের কারণের বিষয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

%d bloggers like this: