Home | আন্তর্জাতিক | বর্ণবাদবিরোধীদের ওপর হামলাকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকতে চাইছেন ট্রাম্প

বর্ণবাদবিরোধীদের ওপর হামলাকে মিথ্যা দিয়ে ঢাকতে চাইছেন ট্রাম্প

ভার্জিনিয়ায় শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের মিছিল এবং বর্ণবাদবিরোধী সমাবেশ থেকে সৃষ্ট উত্তেজনাকে বহুপক্ষীয় বিদ্বেষ-গোঁড়ামি ও সহিংসতা বলছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের খবর থেকে জানা গেছে, বর্ণবাদবিরোধী শান্তিপূর্ণ সমাবেশ চলার সময় শ্বেতাঙ্গরা সমাবেশস্থলে মিছিল নিয়ে এলে সংঘর্ষ শুরু হয়। চলন্ত গাড়ি দিয়ে হামলাও হয়েছে বিরোধীদের ওপর। তা সত্ত্বেও ঘটনার নিন্দা জানাতে গিয়ে বার বার ‘অনেক পক্ষ’ কথাটির ওপর জোর দেন ট্রাম্প।

ভার্জিনিয়ার সহিংসতা

শনিবার (১২ আগস্ট) শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীদের একটি মিছিল বর্ণবাদবিরোধীদের সমাবেশস্থলে এলে সংঘর্ষের সূচনা হয়। সে সময় শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অংশগ্রহণকারীদের ওপর হামলে পড়ে একটি চলন্ত গাড়ি। ঘটনাস্থলে ১ জন নিহত এবং ১৯ জন আহত হন। পরে ঘটনা পর্যবেক্ষণে ভার্জিনিয়া পুলিশের মোতায়েনকৃত একটি হেলিকপ্টার শহরটির কাছে বিধ্বস্ত হলে দুই পুলিশ সদস্য নিহত হন। সব মিলে ওই ঘটনায় প্রাণহানির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে তিনজনে। শনিবার নিউ জার্সিতে দেওয়া ভাষণে ভার্জিনিয়ার সংঘর্ষের ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘অনেক পক্ষের বিদ্বেষ, গোঁড়ামি এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে নিন্দা জানাচ্ছি।’ তিনি বার বার ‘অনেক পক্ষ’ কথাটির ওপর জোর দেন। ট্রাম্প দাবি করে বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা আমাদের দেশে দীর্ঘদিন ধরে চলছে। কেবল ডোনাল্ড ট্রাম্প কিংবা বারাক ওবামার সময় থেকে নয়, আরও আগে থেকে এইসব চলছে। এখন যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ তাহল দ্রুত আইন-শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে হবে।’ একে অপরকে ভালোবাসতে এবং শ্রদ্ধা করতে আমেরিকানদের প্রতি আহ্বান জানান ট্রাম্প।

পরে হোয়াইট হাউসের এক মুখপাত্র ট্রাম্পের বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট যেকোনও উৎস ও যেকোনও পক্ষ থেকে সৃষ্ট বিদ্বেষ, গোঁড়ামি এবং সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন। আজ বিক্ষোভকারী ও বিক্ষোভবিরোধীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।’

যুক্তরাষ্ট্রের গৃহযুদ্ধের সময় দক্ষিণের অঙ্গরাজ্যগুলো দাস প্রথা টিকিয়ে রাখার পক্ষে লড়েছিল। অনেক অঙ্গরাজ্যেই এখনো দাস প্রথার পক্ষের কনফেডারেটপন্থীদের মূর্তি রয়েছে। এমনকি অনেক জায়গায় সরকারি ভবনে পর্যন্ত এখনও কনফেডারেট পতাকা উড়ানো হয়। তবে সম্প্রতি বর্ণবাদবিরোধীদের আন্দোলনের মুখে অনেক জায়গাতেই কর্তৃপক্ষ এ ধরনের মূর্তি অপসারণ করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা ক্ষুব্ধ হয়। তার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি মিছিল যখন ভার্জিনিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে থমাস জেফারসনের মূর্তির পাশ দিয়ে যাচ্ছিল, তখন সেখানে বর্ণবাদ বিরোধী বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বেধে যায়।

About sarah

Check Also

ইউরোপে সাধারণ যেকোনও বস্তুকেই মনে হচ্ছে অস্ত্র

ফ্রান্সের নিস, জার্মানির বার্লিন, যুক্তরাজ্যের ওয়েস্টমিনিস্টারের পর এবার স্পেনের বার্সেলোনা। যেখানে সন্ত্রাসী হামলার জন্য ব্যবহার …

Leave a Reply